Monday, January 2, 2023

ইষ্টার আইল্যান্ড এক অমীমাংসীত রহস্যে ঘেরা দ্বীপ || Tuber Hunt | Easter I...


পৃথিবীতে হাজারো দ্বীপ আছে যেখানে আজও মানুষের পা পড়েনি। আবার কিছু দ্বীপ আছে যেখানে হাজার হাজার বছর আগে মানুষ বসবাস করত কিন্তু আজ তা মানুষ বসবাসের অযোগ্য, তা পরিত্যক্ত। আজ আপনাদের এরকমই এক পরিত্যক্ত দ্বীপের কথা বলব যেখানে হাজার বছর আগে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত মানুষের বসবাস ছিল এবং যারা এই দ্বীপকে রক্ষা করার জন্য বানাতো বিশাল বিশাল মূর্তি। যার এক একটির উচ্চতা এখনকার যুগের দশ তালা বাড়ির সমান। কোন রকম উন্নত প্রযুক্তি ছাড়াই তারা কিভাবে এই বিশাল আকারের মূর্তি বানিয়েছিল তা আজও রহস্য। চলুন ঘুরে আসা যাক সেই রহস্যময় দ্বীপটি থেকে।  

প্রশান্ত মহা সাগরের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ হল ইস্টার আইল্যান্ড। ৬৬ বর্গমাইলের এই ছোট্ট ত্রিভুজাকৃতির দ্বীপটিতে অস্টাদশ  শতকের গোড়ায় ইউরোপীয় নাবিকরা যখন প্রথম পদার্পণ করল, তখন তারা দেখতে পেলো যে পুরো দ্বীপের সমুদ্রের ধার ঘেঁষে শত শত প্রকাণ্ড প্রস্তর মূর্তি। কে বা কারা বানিয়ে রেখেছে তা কোথাও লেখা নেই। মূর্তিগুলো ১৫ থেকে ২০ ফুট চওড়া। প্রায় দশ তালা বাড়ির সমান উঁচু এবং ওজন ১০ থেকে ২৫০ টনেরও বেশি। ইস্পাতের মত কঠিন শীলাকে কাটা হয়েছে মাখন কাটা করে। ১০ হাজার টন ওজনের সব পাথর পড়ে আছে এখানে ওখানে। তাদের আর চাঁছা ছেলা করা হয়ে ওঠেনি। 
৩৩ থেকে ৬৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা আর প্রায় ৫০ টন ভারী শত শত মূর্তি আজও চেয়ে থাকে পর্যটকদের মুখের দিকে বুক ফুলিয়ে। এই দ্বীপটির নামকরণ করেন একজন ডাচ অভিযাত্রী। ১৭২২ সালের এপ্রিল মাসে এই দ্বীপটি প্রথম গোচরে আসে এবং ওই দিন ছিল খ্রিস্টানদের পবিত্র স্টার দিবস। তাই দ্বীপটির নামকরণ করা হয় স্টার দ্বীপ। 

লক্ষাধিক বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ত্রিভুজ আকৃতির এই দ্বীপটির সৃষ্টি হয়। দ্বীপটির তিন কোনায় রয়েছে তিনটি মৃত আগ্নেয়গিরি। দ্বীপটির মোট আয়তন ১৬৩.৬ বর্গ কিলোমিটার। এই দ্বীপটি সারা দুনিয়াতে খ্যাতি লাভ করেছে তার পাথরের বিশাল আকার মূর্তিগুলোর জন্য। মূর্তিগুলোকে ডাকা হয় মুয়াই নামে এবং মূর্তিগুলোকে পাথরের তৈরি প্লাটফর্মে দাঁড় করানো হয়েছে। যেগুলোকে ডাকা হয় আহু নামে। প্রতিটি আহু এবং মুয়াই এর আবার আলাদা নাম আছে। দ্বীপ জুড়ে রয়েছে ১১৩টি আহু এদের মধ্যে ১২৫টিতে মুয়াই স্থাপন করা হয়েছে।

দ্বীপের পরিধি জুড়ে ২৫ কিলোমিটার পর পর রাখা হয়েছে আহু। আহু দ্বারা প্রায় পুরো দ্বীপটিকেই আবর্তিতি করা হয়েছে। প্রত্নতক্তবিদ ভ্যান্টিল বারগ ১৯৮৯ সালে এই দ্বীপ জুড়ে এক জরিপ চালান, তার জরিপে দ্বীপটিতে মোট ৮৮৭টি মুয়াই পাওয়া যায়। প্রাপ্ত মুয়াইয়ের মাঝে ২৮৮টিকে বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত আহুতে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। বেশিরভাগ মুয়াই যে যে খনি থেকে তৈরি করা হয়েছিল তার নাম রানু রারাকু। রানু রারাকুতে স্থানান্তরিত রুপে বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় পড়ে থাকতে পাওয়া যায়। বাকি আহুগুলো দ্বীপের অন্যান্য স্থানে পাওয়া যায়। এইগুলোর বেশিরভাগ মূর্তির মাথা পুরো মূর্তিটির পাঁচ ভাগের তিন ভাগ। সবচেয়ে বড় মুয়াই যা রানু রারাকু কারখানায় রয়ে গেছে তার নাম হলো এলজি গেন্টি। এর উচ্চতা আনুমানিক ৭১.৯৩ কিলোমিটার এবং এর ওজন আনুমানিক ১৬৫ তন। 

আহুতে দাঁড় করানো মুয়াই এর মাঝে সবচেয়ে বড়টি হলো পারু। যার উচ্চতা ৩২.৬৩ ফুট এবং আনুমানিক ওজন ৮২ টন। অবশ্য আহু হিংগাটি তিংগাতে ৩৩.১০ ফুট একটি মুয়াই স্টার বাসি নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু দাঁড় করানোর সময় এটি পড়ে যায়। সব চেয়ে ছোট মুয়াইটি আছে ইউকে। এটির উচ্ছতা ৩.৬ ফুট। ক্যাপ্টেন রগে বিন স্টার এ নেমে দ্বীপে স্থাপিত বিশাল আকার স্থাপতিগুলো দেখে অবাক হয়ে যান। কারণ তিনি দ্বীপটি প্রায় বৃক্ষ শুন্য অবস্থায় দেখতে পান। হাজার দুয়েক মানুষ এবং তাদের তৈরি একদম হালকা ধাঁচের কিছু মাছ ধরার নৌকা দেখেন তিনি। তিনি কিছুতেই ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না এরকম একটি অনগ্রসর দ্বীপবাসীর পক্ষে পাথর খোদাই করে কি করে এত বিশাল মূর্তি বানানো সম্ভব হয়েছিল।

স্টার বাসীর ছিল না পাথর কাটার কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি। যা দ্বারা তারা এত বিশাল পাথর খোদাই করতে পারবে। ছিল না কোন আধুনিক যান, যার দ্বারা তারা রানু রারাকু কারখানা থেকে মুয়াইগুলোকে নানা স্থানে স্থাপিত আহুতে নিয়ে যাবে বা ছিল না কোন ক্রেন যা দ্বারা তারা আহুতে মুয়াই স্থাপন করবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানোর জন্য যত মানুষ দরকার এবং খাবারের দরকার তা ছিল না স্টার দ্বীপে। ছিল না কোন বড় গাছ। তাহলে তারা কিভাবে এই মূর্তি বানালো। আর কেনইবা এত বড় মূর্তি বানালো। তাছাড়া পরিস্থিতিটা আরও রহস্যময় করেছিল সেই খানের আদি বাসিন্দারা। তাদের কথা অনুযায়ী, পাথর খোদাই করার পর পুরোহিতরা মানা নামে এক আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বলে মুয়াইকে হেটে আহুতে চলে যাবার নির্দেশ দিত এবং তারা চলেও যেত। এছাড়া দ্বীপটির প্রাচীন নাম নেবেল অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড ও আইচ লুকিং এট হেভেন। 

অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদদের অন্যরকম গবেষণায় নিয়ে যায়। তাদের মতে, দ্বীপটি  অনেক আগেই বসবাস যোগ্য ছিল এবং প্রাচীন কোন উন্নত সভ্যতা যারা পরে হারিয়ে গিয়েছিল তারা দ্বীপটিতে বসবাস করত কোনো এক সময়। এটি পৃথিবীর জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিছু সৌখিন প্রত্নতান্তিক এসব কর্মকাণ্ডকে ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের কাজ বলে ঘোষণা দিয়ে রহস্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের কথা হলো- একদল আটকে পড়া ভিনগ্রহবাসী এসব মূর্তি বানানো শুরু করেছিল। পরে যখন তাদের উদ্ধার করতে আসা হয় তখন মূর্তি নির্মাণ অসমাপ্ত রেখেই তারা চলে যায়। দ্বীপটির প্রধান মূর্তি তৈরির কারখানা রানু রারাকুতে প্রচুর ব্যাথাল পাথরের তৈরি ছেনি বাটালী পাওয়া গিয়েছে। পাথর খোদাই করতে হলে আধুনিক যন্ত্র লাগবে এমন কিছু না। প্রাচীন সব যন্ত্রপাতি দিয়েও পাথর খোদাই করা সম্ভব। তবে দরকার ছিল প্রচুর লোক। কিন্তু এত লোক দ্বীপবাসি পেল কোথাই? 

যদিও রগে বিন যখন দ্বীপটিতে নামেন তখন খুব বেশি লোক ছিল না। সাম্প্রতিককালে গবেষণায় দেখা যায়, স্টার একসময় গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানে ছিল প্রচুর পাখির বাস এবং তারা মাছ ধরার নৌকা চালাতে ছিলো পটু। কারণ দ্বীপের  মাটি খুঁড়ে ডলফিনের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছে। প্রতিটি মূর্তি আকারভেদে ৫০ থেকে ১৫০ জন লোক পাথর কেটে তৈরি করতে খুব বেশি দিন লাগার কথা নয়। মূর্তিগুলো পরিবহনের জন্য ওয়াজ আকৃতির স্লেজ নির্মাণ করা হয়েছিল আম গাছ দিয়ে। স্টারে থাকা আওহাও নামক এক ধরনের গাছের ছাল ব্যবহার করা হয়েছিল দড়ির কাজে। 

মুয়াইয়ের আকারভেদে ১৮০ থেকে ২৫০ মানুষকে টানতে হয়েছে স্লেজ গাড়ি। তবে সবচেয়ে বড় মুয়াই পারুকে টানতে এর পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি লোক লেগেছিল। একসঙ্গে সবাই সমান গতিতে টানলে সবচেয়ে দূরে আহুতে যেতে সর্বোচ্চ সপ্তাহখানেক সময় লেগেছিল। এর পরের বাধা হলো আহুতে মূর্তিগুলো কিভাবে স্থাপন করা হলো তা নিয়ে। এরও একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, প্রথম মুয়াইয়ের নিচের দিকটা আহুতে টেনে তোলা হয়েছিল। তারপর কাঠ দিয়ে মুয়াই এর মাথা আস্তে আস্তে উপরে উঠানো হয়। ভাসাম্য বজায় রাখার জন্য একাধিক মানুষ দড়ি ব্যবহার করত। তবে এত বিশাল মূর্তি বানানোর ক্ষেত্রে সম্ভবত প্রতিযোগী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছিল। 

স্টার দ্বীপে ১১টির মতো গোষ্ঠি ছিল। যারা হয়ত একজন আরেক জনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। মূর্তি অসমাপ্ত রাখার কারণ হল ততদিনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যাওয়া এবং এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাতে গিয়ে দ্বীপের বৃক্ষ ও খাদ্য ভান্ডার শেষ করে ফেলা। পরিবেশের বিপর্যয় হওয়ায় স্টার দ্বীপে খাদ্যের অভাব দেখা দিল। সম্পদের অপচয় পুরোদমে চালু ছিল কিন্তু সে প্রাকৃতিক সম্পদ নতুন করে সৃষ্টি হচ্ছিল না। ফলে জনসংখ্যা সাংঘাতিক রকম কমে আসে। এভাবে দ্বীপটি জনশূন্য হয়ে পড়ে। 



Saturday, October 15, 2022

এই ৭ টি অভ্যাস মানলেই বয়স ২০ বছর কম দেখাবে! চাইনিজদের জীবন-যাপন। Tuber Hunt

চাইনিজদের ৭ অভ্যাস মানলেই বয়স ২০ বছর কম দেখাবে! চাইনিজরা খুবই স্বাস্থ্যসচেতন। তাদের শারীরিক সৌন্দর্য সবাইকেই অবাক করে দেয়। ওই দেশের কে ১৮ বছর বয়সী আর কার বয়স ৬৮ তা দেখে বোঝার জো নেই। এর কারণ হলো তারা সবাই শারীরিকভাবে এতোটাই ফিট যে ১৮ বছর বয়সীকে টেক্কা দেয় ৬৮ বছরের মানুষেরা। শারীরিকভাবেও তারা যেমন ফিট, ঠিক তেমনই তাদের ত্বক দেখলেও যে কেউই ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাইনিজদের জীবনধারণ পদ্ধতিই তাদের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করে। তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসই সুস্বাস্থ্যের মূল চাবিকাঠি। জেনে নিন চাইনিজদের তেমনই ৭ অভ্যাস, যা মানলে আপনার বয়সও ২০ বছর কম দেখাবে- সপ্তাহের একদিন শুধু নিরামিশ খান ঐতিহ্যগত চীনা ওষুধ পরামর্শ দেয় যে, সৌন্দর্য ও তারুণ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো ডিটক্সমুক্ত থাকা। তাজা খাবার খাওয়া ও খারাপ অভ্যাস এড়ানোর পাশাপাশি চাইনিজরা শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সপ্তাহে অন্তত একটি দিন নিরামিষ খাবার খান। ভাতের সঙ্গে লবণ খান না গবেষকরা বলছেন, লবণ অ্যালার্জিজনিত প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। সোডিয়াম গ্রহণ এড়ানোর মতো একটি ছোট অভ্যাস বার্ধক্যকে ধীর করে দেয়। চাইনিজরা ভাতের সঙ্গে কখনো অতিরিক্ত লবণ মিশিয়ে খান না। পদ্ম পাতার চা পান করা পদ্ম পাতার চা নিয়মিত পান করেন চাইনিজরা। এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে যেমন- প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা সারায়, ওজন কমায় ও পেটের সমস্যা দূর করে। চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে যাদের ওজন বেড়ে যায় তাদের জন্য এই চা বিশেষভাবে সুপারিশ করা হয়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন খালি পেটে ৩-৪ কাপ পদ্ম পাতার চা পান করার পরামর্শ দেন। তাই চি অনুশীলন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাই চি স্ট্রেস, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে পারে। এমনকি শক্তি, স্ট্যামিনা ও নমনীয়তা বাড়াতেও সাহায্য করে। এটি যোগব্যায়ামের একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। মুগ ডালের ফেস মাস্ক ব্যবহার মুগ ডাল ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। চাইনিজরা ত্বকের যত্নে এই ডাল ব্যবহার করেন। এজন্য ভিজিয়ে রাখা ডাল সমৃণ করে বেটে ত্বকে ব্যবহার করেন তারা। এই টোটকা ব্রণ নিরাময় করে ও ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে। হলুদের মাস্ক ব্যবহার ত্বকের যত্নে মুগ ডালের পাশাপাশি আরও একটি কার্যকরী মাস্ক হলো হলুদের মিশ্রণ। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে এই মাস্ক। টকদই বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে নিজেই একটি মাস্ক তৈরি করতে পারেন। তবে হলুদে যদি আপনার অ্যালার্জি থাকে তাহলে এটি ত্বকে ব্যবহার করবেন না। মাশরুম খান চাইনিজরা বিভিন্ন খাবারে ছত্রাক যোগ করে। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো হল স্ট্র মাশরুম, শিতাকস, ট্রাফলস ও দুধ মাশরুম। মাশরুম ভিটামিন ডি এর একটি ভালো উৎস। এতে আর থাকে খনিজ পদার্থ। কম ক্যালোরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর মাশরুম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে আপনি তারুণ্য বজায় রাখতে পারবেন।






Monday, August 15, 2022

"Ellen Austin-The Mystery Explored" | Ellen Austin জাহাজের সাথে কি হয়েছ...


Ellen Austin জাহাজের সাথে কি হয়েছিল?



বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের সবচাইতে ভুতুড়ে রহস্যময় ঘটনাটি ঘটেছিলো ১৮৮১ সালে সেই সময়ের বিশাল আকারে আলোচিত (Ellen Austin) এলেন অস্টিন জাহাজের সাথে। এই জাহাজটি লম্বায় ছিল প্রায় ২১০ ফিট।

এই জাহাজটি ইউরোপের লন্ডন শহর থেকে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছিল, সমুদ্র যাত্রার সময় এলেন অস্টিন জাহাজের চলার পথে একটি অচেনা জাহাজ নজরে আসে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অঞ্চলের মধ্যে। দূরথেকে স্বাভাবিক মনে হলেও জাহাজে কোন যাত্রী বা নাবিক ছিলোনা।

 এলেন অস্টিন জাহাজের ক্যাপ্টেন ওই অপরিচিত জাহাজের সাথে কি হয়েছে সেটা জানার ইচ্ছা  প্রকাশ করেন তারা জাহাজের খুব নিকটে গিয়ে অপেক্ষা করেন কারণ সেই সময় সমুদ্রে জলদস্যুদের দ্বারা জাহাজ লুটের ঘটনা ছিল অধিক। কিন্তু  দুই দিন পর্যন্ত জাহাজের মধ্যে কোন মানুষের নিশানা না পাওয়ায় তারা জাহাজে উঠে দেখেন সেখানকার সকল কিছু সঠিক জায়গায় রাখা রয়েছে শুধু মানুষের উপস্থিতি নেই।

বলাহয় সেই জাহাজটি সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যালেন অস্টিন জাহাজের ক্যাপ্টেন তার জাহাজের কিছু নাবিককে সেই জাহাজে পাঠান। এলেন অস্টিন জাহাজের সাথে ভুতুড়ে জাহাজটি দুই দিন চলার পরে একটি সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পরে সেটি দূরে হারিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন সেটি আবার খুঁজে পেলে দেখেন আগের মতোই সেই জাহাজের নাবিকরা কেউ জাহাজে নেই।

কাহিনী অনুযায়ী এলেন অস্টিন জাহাজের ক্যাপ্টেন দ্বিতীয়বার আবার সেই জাহাজে লোক পাঠিয়ে সেই জাহাজটি সঙ্গে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন এবং কিছুদিন পরে জাহাজটি আবারো ঝড়ের কবলে পরে অদৃশ হয়ে যায়। আবার আর সেই জাহাজের কোন খোঁজ পাওয়া যায়না।

এই ঘটনার পরে জাহাজটি নিউ ইয়র্ক পৌঁছুলে ঘটনাটির চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে। আর এলেন অস্টিন জাহাজের মালিক এই ঘটনায় বিচলিত হয়ে জাহাজটি বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এলেন অস্টিন জাহাজটি একটি ফ্রান্সের সংস্থা কিনে নেয় এবং নাম পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়।

Sunday, June 26, 2022

আপনার স্মার্টফোন একবার চার্জ করতে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়? Tuber Hunt

স্মার্টফোন একবার চার্জে কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হয়? স্মার্টফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্মার্টফোন শুধু কথা বলার কাজেই নয়, সিনেমা দেখা থেকে শুরু করে গেম খেলা, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সবই করা যায়। তবে সারাক্ষণ ফোন চালিয়েও এর আয়ু ধরে রাখতে রিচার্জ করার প্রয়োজন পড়ে। দিনে অনেকে একবার স্মার্টফোন চার্জ দেন আবার অনেকে দুই থেকে তিনবারও দেন। তবে স্মার্টফোনের চার্জ নির্ভর করে এর ব্যাটারির উপর। তবে জানেন কি স্মার্টফোন একবার চার্জ দিলে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়? এটি নির্ভর করে আপনার ফোনের ব্যাটারি এবং চার্জারের উপর। বর্তমানে অধিকাংশ ফোনে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ব্যাটারি দেওয়া হলেও অনেক ফোনে সাধারণ কম ক্ষমতার ব্যাটারি দেওয়া হয়। এর ফলে খুব অল্প সময়েই চার্জ শেষ হয়ে যায়। একারণে বিভিন্ন সংস্থার তরফে বেশি ক্ষমতার ব্যাটারি দেওয়া হয়। অন্যদিকে যেসব ফোনে কম ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি দেওয়া হয় সেসব ফোনে একাধিকবার চার্জ দিতে হয়। সেক্ষেত্রে বারবার চার্জ দেওয়ার ফলে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না প্রতিবার চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কত পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিদ্যুৎ খরচের বিষয়টি নির্ভর করে কী ধরনের চার্জিং অ্যাডপ্টার ব্যবহার করছেন। তবে এবিষয়ে লরেন্স বার্কলে ল্যাবের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে যদি ৩ থেকে ৭ ওয়াটের মধ্যে কোনো চার্জিং অ্যাডপ্টার ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে ২ ঘণ্টা চার্জ দিলে খরচ হয় .০০৬ থেকে .০১৪ ইউনিট বিদ্যুৎ। অর্থাৎ যদি আপনি প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে নিজের ফোন চার্জ করেন তাহলে সারা বছরে আপনার মোট ২ থেকে ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হবে। অর্থাৎ যদি ৭ টাকা করে প্রতি ইউনিটের দাম হয় তাহলে ফোন চার্জের জন্য প্রতি বছর খরচ ১৪ টাকা থেকে ৩৫ টাকা। অনেকেই আছেন সারারাত কিংবা দীর্ঘসময় ফোন চার্জে দিয়ে রাখেন। এতে কিন্তু আপনার বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে। কারণ ফুল চার্জ হওয়ার পরেও বিদ্যুৎ গ্রহণ করে স্মার্টফোন। এইভাবে ফোন চার্জিং সকেটের সঙ্গে লাগিয়ে রাখলে ২ থেকে ৪ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয় বলে জানা গেছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শুধু একটি ফোনের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে ফোনের সংখ্যা বাড়লে, ব্যাটারি এবং চার্জিং অ্যাডপ্টারের উপর নির্ভর করেও ফোনের চার্জিং খরচ নির্ভর করে।

Tuber Hunt